আমার এক বড় ভাইয়ের ঘটনা।তার ভাষায় বলছি।
খুলনা ইউনিভার্সিটিতে
ইলেকট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন
ইঞ্জিনিয়ারিং এ ১ম বর্ষে পড়ি।
খটোমটো নাম। সংক্ষেপে ECE বলি।
মাস দুয়েক মত ক্লাস হয়েছে।
খুলনা ইউনিভার্সিটিতে হলে সিট
সমস্যার কারণে থাকার জায়গার খুব
সমস্যা। প্রথম দুই বছর হলে সিট
পাওয়া যায় না। এ
সময়টা বাইরে মেসে বা কোন
বাসা ভাড়া নিয়ে কাটিয়ে দিতে হয়।
অন্যদের মতো আমিও এ মেস ও
মেস করে বেড়াচ্ছি, জুতসই থাকার
জায়গা পাচ্ছি না। আমরা চার-পাঁচ
জন ক্লাসমেট মিলে ঠিক করলাম
'নিরালা'তে একটা বাসা ভাড়া নিয়ে
একসাথে থাকব। 'নিরালা'
হলো মোটামুটি ভাল একটা আবাসিক
এলাকা, ভার্সিটি থেকে রিকশায় দশ-
বারো মিনিটের পথ। তখনো নিরালায়
এখনকার মত এত বিল্ডিং তৈরি হয়
নি। মাঝে মাঝেই ফাঁকা প্লট, বেশ
গাছপালা আছে।
আমরা রুটিন করে প্রতিদিন
বিকেলবেলা বাসা খোঁজাখুঁজি শুরু
করলাম। কেউই ব্যাচেলরদের
বাসা ভাড়া দিতে চায় না।
বাড়ি ভাড়া নিতে চাই শুনে প্রথমেই
বলে, ব্যাচেলর? বাড়ি ভাড়া হবে না।
ক্রমাগত এই
কথা শুনতে শুনতে আমরা আমাদের
চেহারা নিয়ে হীনমন্যতা বোধ
করা শুরু করলাম। হয়ত আমাদের
চেহারা দেখেই মনে হয়
যে আমরা তার বউ
অথবা মেয়েকে নিয়ে ভেগে যাব।
তারপর থেকে আমরা শেভ-টেভ
করে ভদ্র পোশাক-আশাক
পরে বাড়ি ভাড়া খুঁজতাম। নিয়াজ শখ
করে 'ডিস্টারবড' ব্যান্ডের
ভোকালের মত দাড়ি রাখত।
আমরা ধরে-বেঁধে ওকে শেভ
করিয়ে দিলাম। আমাদের
মধ্যে দেখতে সবচেয়ে ভদ্র, সুইট
ছিল অপু। বাড়িওয়ালাদের
সাথে কথা বলার সময়
ওকে ঠেলে এগিয়ে দিতাম। কিন্তু
বিড়ালের ভাগ্যে শিকে আর
ছেঁড়ে না।
এক একটা বাড়িতে ব্যর্থ হই আর
নিজেদের
মধ্যে বাড়িওয়ালাকে গালাগালি করি,
ওর মেয়ের যেন ব্যাচেলরের
সাথে বিয়ে না হয় বলে বদ
দোয়া করি আর বাড়িওয়ালাদের কেন
এত মেয়েসন্তান হয়
তা নিয়ে গবেষণা করি।
এভাবে মাসখানেক চলার পর একদিন
আমাদের কপাল খুলে গেল। নিরালার
শেষ
দিকে একটা বাসা ভাড়া পেয়ে গেলাম।
একতলা এক ইউনিটের বাড়ি, তিন
বেডরুম- ঠিক
যেমনটা আমরা চাচ্ছিলাম।
বাড়িওয়ালা থাকেন না।
সরি বাড়িওয়ালা না, বাড়িওয়ালী।
কেয়ারটেকার রহমত আলীর
কাছে শুনলাম যে, বাড়িওয়ালা বছর
পাঁচেক হলো মারা গেছেন। তারপর
থেকে বাড়িওয়ালীও আর
এখানে থাকেন না।
তিনি সাতক্ষীরায়
থাকেন। কেয়ারটেকার রহমত
আলী তাঁর দূর সম্পর্কের আত্মীয়।
বাসা পেয়ে তো আমরা মহাখুশী।
ব্যাচেলর মাত্রেই
জানে যে বাড়িওয়ালা না থাকাটা কত
বড় সৌভাগ্যের।
বাড়িওয়ালারা যেমন ব্যাচেলরদের
দেখতে পারে না,
তেমনি ব্যাচেলররাও
বাড়িওয়ালাদের
দু'চক্ষে দেখতে পারে না।
বাসাটা ছোট কিন্তু বেশ বড়
জায়গা জুড়ে, নয়-দশ কাঠা হবে,
পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। আশে-পাশের
কয়েকটা প্লট ফাঁকা,
এখনো বাড়ি তৈরি হয় নি। পাঁচিলের
ভেতরে পিছনের
দিকে একটা ঝুপড়ী ঘর, বোধহয়
কাজের লোকদের থাকার জন্য করা।
এখন আর কেউ থাকে না।
কয়েকটা আমগাছ আর পেয়ারাগাছ
চোখে পড়ল। সময় সুযোগ হলে কিছু
আম-পেয়ারা আমাদের পেটের ভেতর
যাবে ভেবে পুলকিত হলাম।
সস্তা খাট-টেবিল দিয়ে আমাদের
সংসার সাজিয়ে ফেললাম। অন্যরুম
দুটোতে দু'জন করে আর
বাকীটাতে আমি একা।
রুমে ডাবলিং করতে আমি একটু
অস্বস্তি বোধ করি।
আমাদের পাঁচ জনের সংসার শুরু হল।
আমাদের
কাজে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে হাজির
হওয়ার মত বাড়িওয়ালা নেই
বলে আমরা মহাখুশি। সন্ধ্যার পর
ছাদে আড্ডা দিই। নিরালায় তখন
অনেক ছাত্ররা থাকত। তাদের
অনেকেই আমাদের আড্ডায় যোগ
দিত। নিয়াজ আমাদের বিশিষ্ট গায়ক
এবং গিটারিস্ট। গীটার বাজানো,
গান,
দশ-বারো জন বন্ধু মিলে আড্ডা,
তাস খেলা - সব
মিলিয়ে বলতে পারেন
সুখী ছাত্রজীবন কাটাচ্ছিলাম।
এর মাঝে এক রাতে একটা ছোট
সমস্যা হয়ে গেল। তখন রাত দুটো-
তিনটে হবে। কোন
একটা শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেল।
খেয়াল করলে শুনি সামনের চেয়ারটায়
ক্যাচ-ম্যাচ শব্দ। সস্তা কাঠ।
চেয়ারে বসে কেউ সামান্য নড়লেই
শব্দ হয়। আমি মাথার কাছের বেড
সুইচটা অন করেই
ভয়ে পুরোপুরি জমে যাই।
দেখি আশি-নব্বই বছরের এক
অতি বৃদ্ধ লোক চেয়ারের উপর
বসে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
মাথায় অল্প কয়েকগাছি চুল,
ময়লা সাদা কাপড় রক্তে মাখামাখি।
আমি প্রচণ্ড এক চিৎকার
দিতে যেয়ে নিজেকে সামলে নিই।
ভুতের ভয়
পেয়েছি জানাজানি হলে খুব লজ্জার
ব্যাপার হবে। আমি চোখ বন্ধ
করে ফেলি। নিজেকে বোঝাই,
আমি যা দেখেছি তা হেলুসিনেশন,
আমার কল্পনা। দরজা-জানালা সব
বন্ধ করে ঘুমিয়েছি। ঘরে কোন বৃদ্ধ
মানুষের ঢোকার কোন প্রশ্নই
আসে না।আমি ভয়ে ভয়ে আবার
চোখ খুলি। দেখি বুড়োটা তখনও
আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বড় বড়
চোখগুলো ধকধক করে জ্বলছে।
আমার চিন্তা বুঝতে পেরেই
কিনা কে জানে, আমার
দিকে তাকিয়ে হাসল। সে কী ভয়ানক
হাসি! বুড়োর মুখের
কাটাটা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক
বড়। দেখে মনে হচ্ছে কেউ কোন
ধারাল চাকু দিয়ে ঠোঁটের দুইপাশ
চিরে দিয়েছে। হলদে মাড়িগুলো বের
হয়ে আছে। আমার দেখতে ভুল
হতে পারে, কিন্তু মনে হল ঠোঁটের
চেরা জায়গায় তখনো শুকনো রক্ত
লেগে আছে। আমি আবার চোখ বন্ধ
করে ফেলি। এর কিছুক্ষণ পর
তাকিয়ে দেখি চেয়ার ফাঁকা,
ঘরে কেউ
নেই। চারপাশের নিস্তব্ধতা বড়
বেশি কানে বাজল।
ভয়ে আমি সারারাত লাইট
জ্বালিয়ে বিছানায় বসে থাকলাম।
পরের দিন ভয়
অনেকখানি কেটে গেল। দিনের
আলো ভয় কমিয়ে দেয়।
নিজেকে মোটামুটি বিশ্বাস
করিয়ে ফেলি যে যা দেখেছি ভুল
দেখেছি। আমি ভীতু নই, আবার
অতিপ্রাকৃত
ব্যাপারগুলো পুরোপুরি অবিশ্বাসও
করি না। সায়েন্স যদিও ভুত বলে কিছু
নেই ঘোষণা দিয়ে ক্রমাগত
বিজ্ঞাপন প্রচার করে, তারপরও
অনেক অতিপ্রাকৃত ব্যাপারই
সায়েন্স ব্যাখ্যা করতে পারে না।
আমি নিজে সায়েন্সের লোক, তাই
সায়েন্সের
ফাঁকগুলো মোটামুটি ধরতে পারি।
একটু চিন্তা করে দেখুন, সায়েন্স
এখন এমন অনেক কিছু সম্ভব
করেছে একশ বছর
আগে যেগুলো স্রেফ ভৌতিক
ব্যাপার।
আমরা যে সিনেমা ডাউনলোড
করি তাও কিন্তু একশ বছর আগের
হিসাবে অতিপ্রাকৃত। ওয়াই-ফাই
ধরনের নেটওয়ার্কে তো তারই
লাগে না। যে নায়ক-নায়িকা আপনার
কম্পিউটার
মনিটরে নাচানাচি করছে তারা কিন্তু
কিছুক্ষণ আগেই অদৃশ্য ছিল। সবই
ইলেক্ট্রনিক ফ্রিকোয়েন্সি। এক
সময় হয়ত মানুষকেও
এভাবে ট্রান্সফার করা যাবে।
যে রহস্যময়
জিনিসগুলো আমরা মানুষেরা করছি
সৃষ্টিকর্তা যে তারচেয়ে বহুগুনে
রহস্যময় কিছু করবেন তাতে আর
আশ্চর্য কি। আমাদের পবিত্র
কোরআন শরীফেও তো জীনের
কথা স্পষ্টভাবে বলা আছে।
আপনি হয়ত
এতক্ষণে গালাগালি দিতে শুরু
করেছেন। ব্যাটা ভুতের গল্পের নাম
করে সায়েন্স কপচাচ্ছিস! গল্প
থেকে দূরে সরে যাওয়ার জন্য
সরি ভাই।
তো যা বলছিলাম। পরের দিন
আমি নিজেকে প্রায় বিশ্বাস
করিয়ে ফেলি যে যা দেখেছি তা আমার
কল্পনা। আজ কষে একটা ঘুম দিলেই
সব ঠিক হয়ে যাবে। সেদিন
রাতে কষে একটা ঘুম দেব বলে কেবল
শুয়েছি, দেখি আমার খাটের
নিচে কেমন জানি একটা শব্দ হচ্ছে।
খেয়াল করে শুনলে মনে হল, কেউ নখ
দিয়ে মেঝে খামচাচ্ছে।
নিজেকে বোঝালাম ইঁদুর-টিদুর ও
হতে পারে। লাইট জ্বালিয়ে খাট
থেকে নেমে সাহস সঞ্চয়
করে খাটের নিচে উঁকি দিলাম।
দিয়েই
গত রাতের সব ভয়
একসাথে ফিরে আসল।
দেখি গতকালের
বুড়োটা ঘাপটি মেরে বসে আছে।
খাটের নিচের অন্ধকারের ভিতরেও
চোখ দুটো জ্বল জ্বল করছে।
আমাকে দেখেই হাত বাড়াল, যেন
আমাকে ধরতে চায়।
আমি পালাতে যেয়ে দেখি পা নাড়াতে
পারছি না। মন্ত্রমুগ্ধের
মতো দেখি একটা বড় বড়
নখওয়ালা হাত খাটের নিচ
থেকে বেরিয়ে আসছে আমার
পা ধরার
জন্য। অনেক
চেষ্টা করে পা তুলে দৌড়াতে যেয়ে
পায়ে পা বেধে দড়াম
করে মেঝেতে পড়ে গেলাম। বাসার
অন্যরা আমার পড়ার শব্দ
শুনে দরজা ধাক্কাচ্ছে। আমি অনেক
কষ্টে খাটের
নিচে তাকিয়ে দেখি বুড়োটা আর
নেই।
আমার কপালের
কাছটা ফুলে গেছে মনে হচ্ছে।
প্রচণ্ড ব্যাথায় বাম হাত
নাড়াতে পারছি না।
এ যাত্রায়ও আমি বুড়োর
ব্যাপারটা কাউকে বললাম না। ভুতের
ভয় পেয়ে আছাড় খাওয়া খুব
একটা গর্বের বিষয় না। তাছাড়া,
অতিপ্রাকৃত ব্যাপার বিশ্বাস
করলেও কোন একটা ভুত কোন
কারণ ছাড়াই আমার
পা ধরে টানাটানি করার
চেষ্টা করবে-
আমি নিজেও এটা বিশ্বাস
করতে পারছিলাম না।
আমি ধরে নিলাম
এটা সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের মত
সমস্যা। এ ধরনের রোগীদের প্রচুর
হেলুসিনেশন হয়, কল্পনায়
নানা ধরনের মানুষকে দেখে যাদের
কোন অস্তিত্ব নেই। যাদের
অবস্থা সিরিয়াস তারা কাল্পনিক
লোকদের সাথে বসবাস
করতে থাকেন।
আমি নিজেই আমার ট্রিটমেন্টের
ব্যবস্থা করলাম। আর্কিটেকচার
ডিপার্টমেন্টের
একটা ছেলেকে আমার রুমে উঠালাম।
নাম ইমতিয়াজ। ইমতিয়াজ আসার
পর আমার ভয় অনেকটা কমে যায়।
ছেলেটা রাত জেগে কাজ করে।
আমি একা জেগে থাকার রিস্ক
না নিয়ে ও ঘুমানোর আগেই
ঘুমিয়ে পড়ি। এভাবে বেশ কয়েকমাস
কেটে গেল। বুড়োর কোন দেখা নেই।
আমার ট্রিটমেন্টে আমি নিজেই
মুগ্ধ।
এর মাঝে আমাদের কাজের
বুয়া পাল্টানো হল। নতুন
বুয়া নাকি এর আগেও এ
বাড়িতে কাজ করেছে।
সে আমাকে প্রথম দিন দেখেই
বলে উঠল, 'মামা, আফনের
চেহারা এক্কেবারে এই বাড়ির
ভাইজানের মতো'। শুনে আমার একটু
কৌতূহল হল। জিজ্ঞেস
করে করে বুয়ার কাছ
থেকে যা জানতে পারলাম তা যথেষ্ট
ইন্টারেস্টিং। ঘটনা হল - ঐ বাসার
বাড়িওয়ালা-
বাড়িওয়ালী দম্পতি নিঃসন্তান
ছিলেন।
পরে তারা একটা ছেলে দত্তক নেন।
বড় হয়ে ছেলেটা পুরোপুরি বখে যায়।
সম্পত্তির
ভাগাভাগি নিয়ে বাড়িওয়ালা বাবার
সাথে প্রচণ্ড ঝগড়াঝাঁটি হয়
এবং এক
পর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে বাবাকে
খুন করে। এই বাসারই কোন এক
বাথরুমে নাকি লাশ অনেকদিন
লুকানো ছিল।
পরে ছেলেটি ধরা পড়ে এবং ফাঁসি হয়।
অনেক ট্র্যাজিক ঘটনা। কিন্তু
সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল ঐ
ছেলেটা নাকি দেখতে আমার মত
ছিল!
আমার ভয় পাওয়ার
ব্যাপারটা আমি ভুলেই গেছিলাম।
গল্পটা আমার আগের ভয় পাওয়ার
সাথে মেলালে মোটামুটি একটা
ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যায়।
তবে ব্যাপারটা অনেকদিন হয়
নি বলে সাহসের
সাথে ব্যাপারটা নিছক কাকতালীয়
বলে মাথা থেকে দূর করে দিলাম।
এর মাঝে আমাদের পি.এল.
(প্রিপারেশন লীভ; পরীক্ষার
আগে সপ্তাহখানেকের ছুটি) দিল।
আমরা সব যে যার বাড়ি চলে গেলাম।
বাসায় ঠিকমত পড়াশোনা করা হয়
না বলে পরীক্ষার কয়েকদিন আগেই
খুলনা চলে আসলাম।
আরো কয়েকজন ওইদিন
আসবে বলেছিল, কিন্তু
নানা কারণে আর কেউ ওইদিন আসল
না। সন্ধ্যার দিকে বাসায় ঢুকেই
মনে হল, পুরো বাড়িতে আমি একা।
আগের সব
ভয়গুলো একসাথে মনে পড়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর লোডশেডিং হল।
আমার এত ভয় লাগছিল
যে আমি বাসা থেকে বেরিয়ে নিরালা
মোড়ে একটা চায়ের
দোকানে ইলেক্ট্রিসিটি না আসা
পর্যন্ত বসে থাকি।
ইলেক্ট্রিসিটি চলে আসলে বাসায়
ঢুকি। বাসায় ঢুকে কেবল
দরজা দিয়েছি,
শুনি পিছনে গোঁ গোঁ শব্দ শব্দ
হচ্ছে। তাকিয়ে দেখি সেই অতি বৃদ্ধ
লোকটা। ভয়ে আমার এক পাও নড়ার
ক্ষমতা নেই।
বুড়োটা দৌড়ে এসে ওর কংকালের
মত আঙুল দিয়ে আমার
গলা চেপে ধরল। লোহার মত শক্ত
আঙুল। আমি যথেষ্ট শক্তিশালী।
কিন্তু কোনভাবেই ওর হাত
থেকে নিজেকে ছাড়াতে পারলাম
না।
শুধু চিৎকার করতে থাকি, 'আমি না।
আমি না' এরপর আর কিছু মনে নেই।
পরের দিন হাসপাতালে আমার জ্ঞান
ফেরে। আমরা ঐ বাসাটা ছেড়ে দিই।
এরপর আর কোনদিন আমি ঐ
বুড়োকে দেখি নি।
Monday, 13 October 2014
বুড়ো ভুতের বাড়ি
ভুতের বাড়ী
একটা মৎস
জীবির বাড়িতে ঘটে।
প্রতিদিন লোকটা জাল নিয়ে মাছ
ধরতে যাবে। সেদিন তার ছোট ভাই
জেদ
ধরলো সে ও যাবে। লোকটি অনেক
রাত পর্যন্ত
মাছ ধরত তাই ভাইকে বার বার
মানা করে।।
ছোট ভাই মানে নি।।। তাই
লোককটির
মা তাকে সাথে নিতে বলে।
তখনো এই
এলাকায় বিদ্যুৎ আসেনি।। তাই লাইট
নয়
কুপি নিয়ে নদীতে যায় ২ ভাই।
লোকটি মাছ
ধরা নিয়ে ব্যস্ত।
প্রায় অনেক ক্ষন পরে লোকটি খেয়াল
করল মাছ
ধরছে সে ঠিকইই কিন্তু মাছ তার
অনুযায়ী অনেক
কম। লোক টা খুব অবাক হয়ে নৌকায়
খুজে।। কিন্তু
মাছ পেলনা।। ঘন্টা খানেক পর
সে খেয়াল
করে কাও একজন নৌকায় মাছ হাত
দিয়ে নিয়ে খাচ্ছে। লোকটি ছিল
কবিরাজ।
তাই মন্ত্র পরে জাল
দিয়ে পেচিয়ে ফেলে সে জিনিস
টিকে।
তার পর সে দেখতে পায় নৌকায়
একটা লাশ।
সেটা ছিল তার ভায়ের।।।
সে বাসায় কাও
কে না জানিয়ে তার ছোট
ভাইকে জানাযা দিয়ে বাড়ি ফিরে।
বাসায় আসে তার ভাই
রুপি পেতনি টি কে মুক্তি করে তার
ভাই রুপে।।।
কিন্তু পেতনিটি তখন তার ভাই এর
রুপে। কারণ
পেতনিটির সকল
শক্তি লোকটি আটকে রেখেছে সেই
জালে।।।
জালটি ব্যবহার করা হবে তাই
লোকটি মন্ত্র
দিয়ে তা এক কাথায়
বন্ধি করে রাখে। আর
কাথাটি উঠিয়ে রাখা হয় ঘরের
চালের টুয়ায়
( নিচের অংশে )
কিছু দিন হয় তার ছোট ভাই
রুপি পেতনিটির
অনেক জর। লোকটির সাফ
মানা কাথায়া ণামান যাবেনা।।
তাহলে তার ২
ছেলে কে হারাবে তার মা।।
ছোট ছেলে মা কে বার বার
বলছে কাথাটা দেও নামিয়ে।।
আমি ভাল
হয়ে যাব।। ছোট ছেলের অসুখ মা সহ্য
করতে না পেরে কাথাটা এক সময়
নামাতে বাধ্য হয়।
কাথাটা নামিয়ে দেতেই
ছোত ছেলে সুস্থ্য হয়ে ওঠে।। লোক
টি বাসায়
আসে তা দেখে বাসা থাকে রাতে চলে যেত।।
প্রতি রাতে লোক টা যে রাস্তায়
আসতো পেতনিটি রোয
অপেক্ষা করতো। কিন্তু
লোকটি অনন্য রাস্তায়
বাড়ি ফিরতো। এক
রাতে তার মা কে সে পর
ঘটনা টা বললো। তার
মা শুনে খুব কান্না করল।
ঠিয়া সে রাতে বাসায় ফিরার
রাস্তা টা পেতনিটি চিনে যায়।।।
তারপর
লোকটিকে ঘার মটকে মারে তাদের
ঘরের
চালে ২ ভাগে বিকক্ত অবস্থায়
পাওয়া যায়
আমাদের। এই দিকে ওই
বাড়িতে নাকি সেই
ভূতের বংশধর আছে।।। আর এই
বাড়িটি ভুতের
বাড়ি নামে পরিচিত।।।
Sunday, 12 October 2014
ট্রেন লাইন
আমার এক বন্ধুর ঘটনা। বছর আগের ঘটনা। আমরা তখন
চট্টগ্রাম পুরনো রেল স্টেশনের
পাশে থাকতাম। আমি তখন
পুরো মাদকাসক্ত ছিলাম। প্রতিদিন
রাতে বন্ধুদের সাথে রেল
লাইনে আড্ডা দিয়ে মদ, গাজা,
হিরোইন খেতাম। আমাদের পছন্দের
আড্ডা দেয়ার জায়গাটা ছিলো দুই
রেললাইনের মাঝ বরাবর।
মানে আমাদের ডান পাশেই ট্রেন
চলাচল করতো।
জায়গাটা পুরো অন্ধকার ছিল। ঝোপ-
ঝাড় গাছপালায় ভরা। ষ্টেশন গার্ড
ছাড়া দিনের বেলায় কেউ সাহস
করতো না ওখানে যেতে। সবাই ঐ
জায়গাটাকে ভয় পেত।
বলতো ওখানে নাকি অনেক মানুষ
মারা গেছে ট্রেনে কাটা পড়ে।
আমরা ঐসব পাত্তা দিতাম না।
বরং আমাদের জন্য সুবিধাই হত। মাঝে-
মধ্যে দিনেও নেশা করতাম
ওখানে গিয়ে। একদিন রাতে আমরা ৪
জন মিলে নেশা করে ওখানে ঘাসের
উপরে শুয়ে ছিলাম। চাঁদের আলো ছিল
তাই ভাল লাগছিল। ৪ জনই
মোটামুটি মাতাল মাতাল অবস্থায়
ছিলাম। আমার হাল্কা চোখ
বুজে আসতেই হটাত একটি কান্নার শব্দ
শুনতে পেলাম। আমি উঠে দেখলাম
আমাদের থেকে প্রায় ৩০ হাত দূরে,
ছোট একটি বাচ্চা রেললাইনের
উপরে শুয়ে আছে আর কান্না করছে।
আমি এই দৃশ্য দেখে ভয় পেয়ে গেলাম।
আসে-পাশে কোন ঘর-বাড়িও নেই।
যে বাচ্চাটা ওখান থেকে আসবে!!
তারপর আমি বন্ধুদের ডাকতে লাগলাম।
কিন্তু আমার বন্ধুরা উঠল না।
ঘড়ি দেখলাম, তখন বাজে রাত
৩টা বেজে ৪০মিনিট। প্রায় ২০
মিনিট ধরে বাচ্চাটার কান্নার শব্দ
শুনতে পেলাম। শব্দ বন্ধ হওয়ার পর
বন্ধুদের জাগিয়ে সব খুলে বললাম।
তারা বিশ্বাস করল না। বলল
হয়তো বিড়াল-টিরাল হবে। আমিও
বিষয়টাকে পাত্তা দিলাম না।
তারপর প্রতিদিনকার মতো সবাই
ফজরের আজান এর ১ঘণ্টা আগে বাসায়
চলে গেলাম।
বিষয়টাকে পাত্তা না দেয়াটাই
ছিল আমার জীবনের মস্ত বড় ভুল। কারন
এরপর দিন আমার জীবনে যে ভয়াবহ
ঘটনাটা ঘটেছিল তা হয়ত আমার
প্রানটাই কেড়ে নিত। আর ছিন্ন ভিন্ন
করে দিত আমার এই দেহ। ঠিক এরপর
দিন আমরা ৪ জন
মিলে আবারো সেখানে আড্ডা দেই।
কার্ড খেলার পর আমরা প্রচুর
পরিমাণে ড্রিঙ্কস করি। তারপর
আমরা আগের মতো ওখানে শুয়ে পড়ি।
ঠিক রাত ৩টার
দিকে বন্ধুরা আমাকে জাগিয়ে তুলল।
বলল তাদের নাকি শরীর খারাপ
লাগছে। দুজন বমিও করেছে।
তারা আমাকে বাসায়
চলে যেতে বলল। তারাও চলে যাচ্ছে।
কিন্তু ড্রিঙ্কস বেশি করাতে আমারও
পুরো মাথা ব্যাথা এবং ঝিম
ধরেছিল। আমি ঘুমের ঘোড়ে তাদের
যেতে বললাম। কিন্তু
ফ্রেন্ডরা আমাকে বার বার
জাগিয়ে তুলতে লাগলো আর
আমি বিরক্ত হয়ে তাদের যেতে বললাম
আর শুয়ে পরলাম। তারাও বিরক্ত
হয়ে চলে গেল। তারা যাওয়ার
কিছুক্ষণ পর হটাত আমার ঘুম ভাঙল
একটি মেয়ের কান্নার শব্দ শুনে।
উঠে তাকিয়ে দেখলাম চাঁদের
আলোতে একটি মেয়ে রেল লাইনের
উপরে হাঁটু গেড়ে বসে, মাথা নিচু
করে খুব জোরে জোরে কান্না করছে।
গতকাল ছোট
বাচ্চাটা যেখানে ছিল ঠিক ওই
জায়গাতেই মেয়েটা বসে আছে।
মেয়েটা এত জোরে কান্না করছিল
যে, মনে হচ্ছিল কেউ তাকে মারছে।
আমি ঘুম থেকে উঠে এই
মেয়েকে দেখে ভয় পেয়ে যাই।
পরে ভাবলাম হয়ত রেল স্টেশনের
পাগল-টাগল হবে। সাহস করে ''এই,
কে রে?'' বলে কয়েকবার ডাক দিলাম।
কিন্তু কোন রিপ্লাই পেলাম না।
মেয়েটা কেঁদেই চলেছে।
আমি বিরক্ত হয়ে লাইন
থেকে একটি শিল পাথর নিয়ে তার
দিকে ছুঁড়ে দিলাম।
পাথরটা মেয়েটার পাঁশে পড়তেই
কান্নার শব্দ থেমে গেলো। তারপর
মেয়েটা আমার দিকে তাকাল। তার
চেহারাটা ঠিক বুঝে উঠার আগেই
সে রেললাইন থেকে হেঁটে পাশের
ঝোপের ভিতরে চলে গেলো।
আমি ঘড়ি দেখলাম ঠিক ৪টা বাজে।
বাসার
দিকে চলে যাবো ভেবে আমি উঠতে লাগলাম।
কিন্তু আমি উঠতে পারছিলাম না।
মারাত্মক ব্যাথা করছিল ঘাড়ে। অনেক
কষ্টে দাঁড়ালাম। কিন্তু শরীর
নাড়াতে পারছি না। খুব
বাজে একটা গন্ধ নাকে লাগছিল।
হঠাৎ আবিষ্কার করলাম, কে যেন আমার
ঘাড়ে বসে আছে!!! তার দুই পা আমার
গলার দুই পাশ দিয়ে এসে ঝুলছে,
এবং দুই হাত দিয়ে সে আমার মাথার
চুল ধরে টানছে আর
মুখে খামচি দিচ্ছে। আমি চিৎকার
করতে থাকি আর হাত দিয়ে নিজের
মুখমণ্ডল বাঁচাতে প্রানপণ চেষ্টা করি।
এভাবে প্রায় কতক্ষন যায়। কখন বেহুঁশ
হয়ে গেছি বলতে পারবো না।
হুশ ফিরার পর নিজেকে বাসার
বিছানায় দেখলাম। পাশে আম্মু-আববু
বসে আছে। তারা আমাকে জিজ্ঞেস করল
“কিরে, কি হৈছিল? তোর মুখে কাটল
কিভাবে?”
আমি সব খুলে বললাম আর
জানতে চাইলাম
আমাকে এখানে কে নিয়ে আসছে।
তখন আববু বলল এলাকার কিছু আঙ্কেল
স্টেশনের পাশের মসজিদে নামাজ
পড়তে যান। তারা লাইন
ধরে হেঁটে আসছিলেন, হঠাৎ দূর
থেকে লাইন এর উপরে আমাকে দেখে,
তারা মনে করেছেন কোন লাশ!! হয়ত
ট্রেনে কাটা
পড়েছে। কিন্তু কাছে আসার পর
আমাকে জীবিত
পেয়ে তারা হাসপাতালে নিয়ে যান।
এর মাঝে আমাকে স্টেশন
গার্ড দেখে চিনতে পেরে আমার
বন্ধুকে ব্যাপারটা জানায়। তারপর
আমার ফ্রেন্ড আমার বাবাকে ইনফর্ম
করে। আববু গিয়ে আমাকে হাসপাতাল
থেকে নিয়ে আসেন। আববু এটা ও বলেন
যে আমাকে রেললাইন থেকে সময়
মতো না সরালে হয়তো আমি কাটা পড়তাম।
কারন ভোরের ট্রেনটা এর কিছুক্ষণ
পরেই আসে।
এরপর থেকে আমি মদ, গাঁজা, রাতের
আড্ডা একেবারেই ছেড়ে দেই।
ব্ল্যাক ম্যাজিক
ঘটনাটা আমার এক দূর সম্পর্কের আত্বীয়ের
কাছ থেকে শোনা।
যাকে নিয়ে ঘটনা তার নাম আসাদ।
ঘটনাটা এরকম :- " আসাদ ১৯৭১ সালের
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বরিশালের
কোনো এক
স্থানে সরকারী চাকরিজীবী ছিলেন।
পাকিস্তানি মিলিটারিরা যখন
বরিশাল আক্রমণ করে তখন উনি মুক্তিযুদ্ধ এ
যোগ দেন। বরিশালের বাবুগঞ্জ নামক
জায়গায় এক ক্যাম্পে তিনি প্রশিক্ষণ
নেন। ওই সময়ে এক
রাতে তিনি প্রাকৃতিক কাজে ক্যাম্পের
পাশের জঙ্গলে যান , অার ভূলবশত
একটি পুরোনো কবরের উপরে বসে পড়েন
। তখন তিনি তার পাশে কিছু শব্দ
শুনতে পান। তখন চাদের আলো ছিল, ওই
আলোতে তিনি দেখেন
পুরোনো একটা গাছ
থেকে একটা মহিলা ঊল্টা হয়ে নিচের
দিকে হেটে নেমে আসছে। মহিলাটির
চোখ বলতে কিছুই ছিল না!
মহিলাটি দেখতে দেখতে তার খুব
কাছে চলে আসে,তিনি কি করবেন কিছুই
বুজতে পারছিলেন না। এমনকি দৌড়
দেওয়ার শক্তিও
হারিয়ে ফেলেছিলেন। তখন
তিনি দেখেন মহিলাটির
মাথা ফাটা,আর
ফাটা জায়গা থেকে রক্ত ঝরছে। কিছু রক্ত
কাপড়ে লেগে আছে আর
চুলগুলো এলোমেলো।
মহিলাটি উনাকে ধরার জন্য হাত
বাড়ালে তিনি দৌড় দেন। কিছু সময় পর
তিনি পিছে তাকিয়ে দেখেন
যে কয়েকটি অনেক বড় আকারের শুকর তার
দিকে দৌড়ে আসছে ।
এটা দেখে তিনি আরো জোড়ে ভয়ে দৌড়
দেন এবং একটা গাছের
সাথে বাড়ি খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যান।
ক্যাম্পে ফিরচে না দেখে তার
সংগিরা তাকে খুঁজতে বের হয়
এবং জংগল এর পাশে পায়। তার
শরিরে কোন কাপড় ছিল
না এবং বিভিন্ন স্থানে লাল দাগ
দেখা যায়। তার অবস্থা বেশী ভাল
ছিল না। তার কিছু দিন পর তাকে তার
গ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয় । তখন যুদ্ধ
শেষ হয়ে গিয়েছিল। তার গায়ের লাল
দাগগুলো কিছুটা বড় হয়ে কাল হয়ে যায়
সাথে প্রচুর ব্যাথাও শুরু হয়। বহু ডাক্তার
দেখিয়েও কোন লাভ হয়নি। শেষে এক
কবিরাজের শরণাপন্ন হন। কবিরাজ
তাকে বলেন তিনি যে জায়গায়
বসেছিলেন সেটা ছিল একটা কবর।
পরে খোজ নিয়ে জানতে পারেন
যে কবরের উপর বসেছিলেন
ওটা একটা মহিলার কবর ছিল,
জে মানুষের উপর কালাযাদু করত।
গ্রামের সবাই মিলে একদিন ওই
মহিলাকে লাঠিপেঠা করে এবং উনি মারা যান।
সবাই মিলে ওনাকে জংগলে কবর
দিয়ে রাখে। এর পর
থেকে অনেকে রাতে জংগলে ওই
মহিলাকে দেখতে পেত। যাদের ভাগ্য
ভাল তারা বেচে ফিরেছে, আর
যারা ওর খপ্পরে পড়েছে তাদের কেউ
মারা যেত আর যারা বেচে ফিরত
তাদের শরীরে লাল দাগ দেখা দিত
যা কিছুদিন পর কালো হয়ে পচা শুরু করত
আর অবশেষ এ মারা যেত। কিছুদিন পর উক্ত
আসাদেরও শরিরেও পচা শুরু হয়
এবং সে মারা যায়।